×

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক দেশের ১৮ কোটি মানুষ: মীর হেলাল

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা শুধু ভুলই নয়, বিভ্রান্তিকরও হবে। এই গণঅভ্যুত্থানের একক দাবিদার কেউ নয়; এর প্রকৃত মালিক বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে ‘ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মীর হেলাল বলেন, দেশের মানুষ যখন মনে করেছে নির্যাতন, দুঃশাসন, স্বৈরাচারী শাসন এবং বিদেশি প্রভাবের অধীনে আর থাকা যাবে না, তখনই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত রূপ বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার পাশাপাশি বিরোধী মতের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই দমন-পীড়নেরই বিস্ফোরণ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বিপ্লব কোনো ব্যক্তি বা দলকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়নি; বরং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারও খবরদারি বা তাঁবেদারিতে চলবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্কে না জড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের হত্যাকাণ্ড, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে। প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হবেন।

মীর হেলাল অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় অনেকেই নিজেদের নেতাকর্মীদের না জানিয়ে আত্মীয়-স্বজন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের কারণে দলের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ নওয়াজের সভাপতিত্বে এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমদ, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান এবং আহত জুলাই যোদ্ধা ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)