×

ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, স্বস্তি ফিরেছে গ্রাহক ও সিএনজি চালকদের মধ্যে

প্রায় এক সপ্তাহের তীব্র সংকটের পর ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এতে বাসাবাড়ির গ্রাহক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক-চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে ফেনী অঞ্চলের গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। ফলে রাত থেকেই বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে নির্বিঘ্নে গ্যাস নিতে পারছে যানবাহন।

বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)-এর কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর জেলার ১৪টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১০টিতে একযোগে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

ফেনী জেলায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে বাখরাবাদ গ্যাস ২৩ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শতভাগ স্বাভাবিক হবে এবং দূরবর্তী উপজেলাগুলোতেও সংকট পুরোপুরি কেটে যাবে।

সরেজমিনে ফেনীর মহিপাল এলাকার হাজী নজির আহম্মদ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনের পরিবর্তে স্বাভাবিক পরিবেশে সহজেই গ্যাস নিতে পারছেন চালকরা। অন্যান্য দিনের মতো কোনো অতিরিক্ত ভিড়ও দেখা যায়নি।

হাজী নজির আহমদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর আজম জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ ভালো থাকায় সারারাত নির্বিঘ্নে যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুল করিম বলেন, কয়েকদিন ধরে পাম্পে পাম্পে ঘুরেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

আরেক চালক মো. হাছান জানান, আগে গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিলিন্ডার পুরোপুরি ভর্তি হতো না। এখন একবার গ্যাস নিলেই সারাদিন নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানো যাচ্ছে।

দূরপাল্লার সিএনজি চালক আবুল কাশেম বলেন, টানা কয়েকদিন গ্যাস সংকটে আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পরিস্থিতির উন্নতিতে তারা স্বস্তি পেয়েছেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ফেনীর উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই পুরো জেলার সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে টানা ছয় দিন গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ও তীব্র স্বল্পতার কারণে যানবাহন চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)