
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, একটি দেশের বড় সম্পদ হলো সে দেশের জনসংখ্যা। দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। উন্নয়ন শুধু অর্থের পরিবর্তন নয়; মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
আজ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ইউএনএফপিএ-এর কারিগরি সহায়তায় এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ‘থ্রি ডিভিডেন্ডস, ওয়ান উইন্ডো: আ পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ, জেন্ডার লভ্যাংশ ও দীর্ঘায়ু লভ্যাংশ প্রত্যেকটি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই হবে না। পাশাপাশি আইন প্রণয়ন ও সংস্কার, বাজেটের কার্যকর ব্যবহার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্পিকার বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পলিসি প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষার সুযোগ, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। তারুণ্যের দক্ষতা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। তরুণদের দক্ষতা ও প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে জনপ্রতিনিধিরা পলিসি লেভেলে কাজ করেন। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষ জনসংখ্যা ও মানবসম্পদ বিদেশে প্রেরণে প্রাধান্য দিতে হবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক সুযোগের তিনটি পৃথক জানালার জন্য পৃথক নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশের জনমিতিক সুযোগ: সম্ভাবনা, সময় ও ঝুঁকি’ শীর্ষক মূল আলোচনায় বক্তারা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, ইউএনএফপিএ ও এসপিসিপিডি প্রকল্পের প্রতিনিধিবৃন্দ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
