×

কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহিত্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)-এর একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত আমলে রেখে যাওয়া ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। নানা ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ঢালাওভাবে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়ার কারণে দেশে অদক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভোকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও জোর দিতে হবে, যাতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে দেশে আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল দেশের উচ্চশিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

তারা কর্মদক্ষতা ও ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে জাতীয় প্রয়োজন, বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, বিনিয়োগ সক্ষমতা ও গুণগত মানের ভিত্তিতে অনুমোদনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এপিইউবির প্রতিনিধিরা যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণা, পেটেন্ট ও বাণিজ্যিকীকরণের পূর্ণ সুযোগ প্রদান, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), বিদেশি ভাষা শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটকে কর্মসংস্থানযোগ্য করা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সহায়ক ও উন্নয়নমুখী নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সমন্বিত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের দাবি জানান।

রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচ্চশিক্ষার প্রসার, গবেষণা, উদ্ভাবন ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান অটুট রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর হিসেবে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে এপিইউবি চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে সংগঠনের ভাইস-চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ ও কে.বি.এম. মঈন উদ্দিন চিশতি, ট্রেজারার কায়ুম রেজা চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল কাসেম হায়দার, কাজী জাহেদুল হাসান ও নওশাদ শামসুল আরেফিন এবং এপিইউবি সচিবালয়ের পরিচালক বেলাল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)