
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা ও বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক জাকাত ব্যবস্থা আরও বিশ্বাসযোগ্য ও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার জাতীয় সংসদে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিরোধী দল (জামায়াতে ইসলামী) মনোনীত সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় ১৯৮২ সাল থেকে সরকারি জাকাত ফান্ড বিভাগ জাকাত সংগ্রহ করে যোগ্য প্রাপকদের মধ্যে বিতরণ করে আসছে। সরকার ২০২৩ সালে জাকাত আইনও প্রণয়ন করেছে।
তিনি জানান, মাদ্রাসা, মক্তব, এতিমখানা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও দেশে জাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান জাকাতের অর্থ দিয়ে লাখ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজন পূরণে সহায়তা করে থাকে।
আমীর খসরু বলেন, প্রায় ৮০ হাজার কওমি মাদ্রাসা জাকাত সংগ্রহ করে। এসব প্রতিষ্ঠান দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, নৈতিক শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাকাতের অর্থ নিয়ে তাদের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে কাজ করছে।
তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও জাকাত দিচ্ছেন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছেন। হজযাত্রীদের সেবা ও মসজিদ নির্মাণের মতো জাকাত ব্যবস্থাপনাও ঐতিহ্যগতভাবে মূলত বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, উলামা সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে জাকাত সংগ্রহ ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত শক্তি হিসেবে বিবেচনার নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর অর্থায়নের অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় জাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জাকাত ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি জাকাত ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে।
আমীর খসরু জানান, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি জাকাত বোর্ড গঠনের কাজ চলছে। পাশাপাশি সারাদেশে জাকাত বিভাগের কার্যক্রম সংস্কার, আধুনিকায়ন ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দেশীয় ও বিদেশি উৎস থেকে জাকাত সংগ্রহ সহজ করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহযোগিতায় এমন একটি ব্যবস্থা চালু হয়েছে, যার আওতায় সরকারি জাকাত ফান্ডে দেওয়া জাকাতের রসিদ আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সংযুক্ত করে কর রেয়াত পাওয়া যাবে।
