
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাথায় গুলিবিদ্ধ ও শরীরে ৩৬টি স্প্লিন্টারের ক্ষত বহনকারী শেখ আজিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি তিনি মাথায় বেঁধেছিলেন, সেটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন শেখ আজিজুর।
উপ-প্রেস সচিব জানান, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে আজিজুরের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুর রহমানের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বর্তমান অবস্থার কথা শোনেন। তিনি কীভাবে আহত হয়েছেন, পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সিএনজি চালানোর সংগ্রাম এবং চলমান চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ নেন। আজিজুরের জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীকে রক্তমাখা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে শেখ আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করে নিজের কথা বলতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। বহুদিন ধরে রক্তমাখা পতাকাটি তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, যা আজ পূরণ হয়েছে।
শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা হাতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর রহমান। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হলে মাথার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে রঞ্জিত সেই পতাকা নিয়েই তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান।
আত্মত্যাগ ও বীরত্বের নজির স্থাপন করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে দীর্ঘ সময় তিনি ‘জুলাই যোদ্ধা’র স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করতে তাঁকে সিএনজি চালাতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তাঁর আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
