
সদরঘাটে যাত্রীচাপ কমাতে আগামীকাল রোববার থেকে বসিলা ও শিমুলিয়া লঞ্চঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
আজ শনিবার বিকেলে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও বসিলা লঞ্চঘাট পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাট এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সাশ্রয়ী নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নৌপথে যাত্রীসেবা সহজ ও নিরাপদ করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সদরঘাট টার্মিনালের যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম মূল্যে যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি লঞ্চে ডিজিটাল ভাড়া তালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়া জানতে পারেন।
ঈদযাত্রায় যাত্রী হয়রানি কমাতে ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে পাঁচ দিন ফ্রি কুলি ও ট্রলি সেবা চালু রাখা হবে। এছাড়া বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য ক্যাডেটদের মাধ্যমে হুইলচেয়ার সেবার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
রাজিব আহসান বলেন, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে টার্মিনালে যাত্রী ছাউনি, পর্যাপ্ত চেয়ার ও বিশ্রাম ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং হকারদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লঞ্চে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি টার্মিনালের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামার জন্য দুটি নিচু স্টেপ পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ওয়াচ টাওয়ার কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে লঞ্চের বোর্ডিং ব্যবস্থাপনা আধুনিক করা হয়েছে এবং টার্মিনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যাত্রীসেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা সহ্য করা হবে না। নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
