×

রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্নে সরকার বদ্ধপরিকর : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

আজ রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ, দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর এবং ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, “এই মামলার বিচার যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শেষ করতে এক মাস সময় লেগেছিল। এছাড়া ১৯৪৮ সালের মুলুক চাঁদ মামলার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ওই মামলার বিচার একদিনেই সম্পন্ন হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চার্জশিট দাখিল করা হলে প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের মামলায় ডিএনএ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই ডিএনএ পরীক্ষার সুযোগ থাকলে তা অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

মন্ত্রী জানান, সাধারণত ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সময় লাগে। তবে রামিসা হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২৫ মে থেকে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুরু হবে। এর আগে যদি ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়, তাহলে ঈদের পরপরই বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

বিচার দ্রুত সম্পন্নে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, “দেশের জনগণ এবং দেশ-বিদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে আমরা সক্ষম হব বলে আশা করি।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা কোনো ভুল পথে এগিয়ে যাই, তাহলে আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন, দিকনির্দেশনা দেবেন। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সংকোচ নেই।”

শিশু ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সামাজিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও তা কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

নেত্রকোনায় এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, সরকার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনজুরুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মুক্ত আলোচনায় ব্লাস্ট, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি আইনগত সহায়তা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। তিনি গরিব, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈষম্যবিরোধী আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনে কোথাও বৈষম্য থাকলে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সরকার সমান্তরালভাবে কাজ করতে চায়।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)