
লিভার রোগ প্রতিরোধে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান ‘৭৯তম ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলি (ডব্লিউএইচএ৭৯)’ চলাকালে বিশ্বব্যাপী লিভার রোগের প্রাদুর্ভাব, বিশেষ করে স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (এসএলডি/ফ্যাটি লিভার) প্রতিরোধে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সাইডলাইন সভায় তিনি প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা Global Liver Institute আয়োজিত এ সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (World Health Organization) ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারায় পরিবর্তন, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি।
প্যানেলে প্রধান বক্তাদের একজন হিসেবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, অসংক্রামক রোগের তালিকায় লিভারের রোগ দীর্ঘদিন উপেক্ষিত থেকেছে। বিশ্বজুড়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই নীরব ঘাতক প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ফ্যাটি লিভারসহ অন্যান্য লিভার রোগ প্রতিরোধে ডিজিটাল স্ক্রিনিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।
এ বৈশ্বিক সংলাপে পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুস্তফা কামাল, নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী পাটে, রাশিয়ার স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী ড. ওলেগ সালাগে, কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি শেখ ড. সালমান খলিফা আবদুল্লাহ আল-সাবাহ এবং কাতারের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা শেখ ড. মোহাম্মদ বিন হামাদ আল-থানি অংশ নেন। পাশাপাশি চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের প্রতিনিধি লেই হাইচাওও বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক ড. হ্যান্স হেনরি পি. ক্লুগে, মিসরের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রী ড. খালেদ আবদেল গাফফার এবং ল্যারি আর. হোল্ডেন।
