×

পশ্চিমবঙ্গে গরু কোরবানি না করার আহবান কলকাতার ইমামের, বললেন- মুসলিমরা নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হবে হিন্দুরাই!

ডেস্ক রিপোর্ট-

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদ–এর ইমাম রাজ্যের মুসলিমদের গরু কোরবানি না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে গরুর মাংস না খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি নামের এ ইমাম বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলিমদের কোরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে ছাগল রয়েছে। তাই সবাইকে ছাগল দিয়েই কোরবানি করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “দয়া করে গরু কোরবানি করবেন না। কখনো আর গরুর মাংস খাবেন না। মুসলিমরা যদি গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের হিন্দু ভাইয়েরাই। কারণ, বহু হিন্দু পরিবার দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই তারা গরু বিক্রি করেন। অনেক পরিবার তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় একটি গরুর পেছনে ব্যয় করেন। সেই গরু বিক্রি না হলে তারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।”
গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার একটি নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। পাশাপাশি, গরু জবাই করতে হলে প্রাণীটির বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং সরকার নির্ধারিত কসাইখানায় জবাই সম্পন্ন করতে হবে।
তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকার কথাও উল্লেখ করেন মাওলানা শফিক কাসেমি। তিনি বলেন, সরকারকে আগে প্রয়োজনীয় কসাইখানা নির্মাণ ও পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে জবাই ও রপ্তানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “একদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ। বড় বড় কসাইখানায় ইসলামিক নিয়মে গরু জবাই করে বিলিয়ন ডলার আয় করা হয়। অন্যদিকে দেশের মানুষকে গরুর মাংস খেতে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। এটি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
সূত্র: পিটিআই

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)