
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাত ধরেই দেশের প্রতিটি গ্রাম একদিন আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যের সাহস, দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা জাতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে আগামীকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি এ উপলক্ষে বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তৃণমূলের আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাহিনীর ৬৭০ জন শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ, সংকট কিংবা জাতীয় প্রয়োজনে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনীটির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এ জন্য তিনি বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এই অভিযাত্রায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উচ্চারণ—‘আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার’—এই চেতনায় গড়ে ওঠা আনসার-ভিডিপি বাহিনী দেশের তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন তৈরি করেছে। গ্রাম ও শহরে নিরাপদ সমাজ গঠন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাহিনীটি সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সুরক্ষা, খাল খনন, বন্যা মোকাবিলা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের শিল্পকারখানা, হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমানে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য নিরলস দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে তারুণ্যই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার ও ভিডিপি যে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে এই বাহিনী আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং দেশ গঠনের দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সাহসী ও কার্যকর ভূমিকার প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন।
