
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের গণমাধ্যম খাতে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নৈরাজ্য দূর করে সাংবাদিক, মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, কমিশন কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। একইসঙ্গে সরকার কিংবা মালিকপক্ষও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ বা অপব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।
আজ দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গ্রুপ বীমা চুক্তির আওতায় ডিআরইউ’র প্রয়াত দুই সদস্যের পরিবারের কাছে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র পক্ষ থেকে মৃত্যু দাবির চেক হস্তান্তর উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, একসময় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ সীমাবদ্ধ ছিল সরকারের প্রচার-প্রচারণায়। কিন্তু বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের পোশাক খাতের শ্রমিকদের সুরক্ষায় শ্রম আইন থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে এখনও কার্যকর কোনো সুসংহত কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যমকে একটি সুস্পষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাধীনতা ও মর্যাদা ভোগ করবেন, তবে সেই সঙ্গে জবাবদিহিতার মধ্যেও থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মালিকপক্ষ যেমন সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না, তেমনি সাংবাদিকতার আড়ালে অপতৎপরতা বা ব্ল্যাকমেইলও বরদাশত করা হবে না। সুরক্ষা ও জবাবদিহিতার এই সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠনে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
গণতন্ত্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র শুধু ভোটের দিনের বিষয় নয়; বরং দুই নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় রাখাই একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মূল দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র প্রয়াত সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের হাতে মৃত্যু দাবি বাবদ তিন লাখ টাকা করে মোট ছয় লাখ টাকার দুটি চেক তুলে দেওয়া হয়।
এ ধরনের কল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ডিআরইউ সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি বিবেচনায় যে বীমা সুবিধা চালু করেছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। তিনি দেশের সব সাংবাদিককে এ ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলকে ধন্যবাদ জানান।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
