×

টুংটাং শব্দে মুখর হিলির কামারপল্লী

মোকছেদুল মমিন মোয়াজ্জেম, নিজস্ব প্রতিবেদক-

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলির কামারপল্লীগুলোতে এখন চলছে ব্যস্ততম সময়। আর মাত্র দেড় সপ্তাহ পর কোরবানির ঈদ। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে দা, ছুরি, বটি ও চাপাতি তৈরিতে নিরলস কাজ করছেন কামাররা। টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে হিলির চারমাথা, গোডাউন মোড়সহ বিভিন্ন কামারপল্লী।

শুধু নতুন সরঞ্জাম তৈরিই নয়, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত পুরাতন দা-বটি, চাকু ও চাপাতি শান দেওয়া এবং মেরামতের কাজও চলছে পুরোদমে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়ছে দিন দিন। কেউ নতুন সরঞ্জাম কিনছেন, আবার কেউ পুরাতন জিনিসপত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন কোরবানির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে।

কামাররা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাজের চাপ অনেক বেশি। ঈদের এখনও বেশ কয়েকদিন বাকি থাকলেও আগেভাগেই প্রচুর অর্ডার পাচ্ছেন তারা। এতে করে কামারপল্লীতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

হিলি চারমাথা এলাকার কামার দিপু কর্মকার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি কাজ হচ্ছে। আগে ঈদের দু-একদিন আগে চাপ বাড়তো, কিন্তু এবার দেড় সপ্তাহ আগেই অর্ডার সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মানুষ শুধু নতুন দা-বটি কিনছে না, পুরোনোগুলোও শান ও মেরামত করাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কাঁচামালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় সরঞ্জামের দামও খুব বেশি বাড়েনি। বর্তমানে প্রতি টিন কয়লা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাংস কাটার দা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বড় চাকু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ছোট চাকু ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বটি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

হিলি বাজারের গোডাউন মোড় এলাকার কামার শ্রী কৃষ্ণ কর্মকার বলেন, ঈদকে ঘিরে এখন হাতে অনেক কাজ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা যাচ্ছে না। আশা করছি এবার ব্যবসা ভালো হবে এবং কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারবো।

এদিকে ক্রেতারাও কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হৃদয় হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, কোরবানির পশু কেনা হয়ে গেছে। এখন জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম কিনতে এসেছি। দাম গত বছরের মতোই আছে, তাই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছি।

আইজুল ইসলাম, রাসেদুল, গোলাপ ও রেহান ইসলাম নামের কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাড়িতে থাকা পুরাতন চাকু-বটি মেরামতের পাশাপাশি নতুন সরঞ্জামও কিনছেন তারা। তাদের মতে, বাজারে দামের তেমন পরিবর্তন না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, কোরবানির ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই হিলির কামারপল্লীতে কাজের চাপ বাড়ে। তবে এবার আগেভাগেই বেচাকেনা ও অর্ডার বৃদ্ধি পাওয়ায় কামারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উৎসাহ। আগুনের ঝলকানি আর লোহা পেটানোর শব্দে যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে হিলির কামারশিল্প।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)