×

শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে অবস্থিত ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন ও প্রাণোচ্ছ্বল সময় কাটিয়েছেন।

সকাল সোয়া ১১টার দিকে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টারটি পরিদর্শনে যান।

সেন্টারজুড়ে তখন শিশুদের হাসি, খেলাধুলা আর কোলাহলে মুখর পরিবেশ। ছোট ছোট শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যের মাঝেই সেখানে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। নিরাপত্তার আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে তিনি প্রায় ১৮ মিনিট শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে শিশুরাও আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। কেউ তার সঙ্গে করমর্দন করে, কেউ খেলনা দেখায়, আবার কেউ নিজেদের আঁকা ছবি নিয়ে ছুটে আসে। প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে শিশুদের ছবি দেখেন এবং হাসিমুখে তাদের উৎসাহ দেন। কখনও শিশুদের মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দেন, আবার কখনও তাদের কথায় প্রাণখুলে হাসেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন। তিনি নিজ হাতে শিশুদের চকলেট, টফি, ললিপপ ও উপহার বিতরণ করেন। উপহার দিতে দিতে শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আর কেউ কি বাকি আছে? সবাই পেয়েছো তো?”

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে মজা করে বলেন, “আজকে কার জন্মদিন বলো তো?” তখন কয়েকজন শিশু একসঙ্গে বলে ওঠে, “আংকেল, আমার!”

পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ তোমাদের সবার জন্মদিন। আসো, আমরা একসঙ্গে কেক কাটি।” এরপর শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন তিনি। পুরো কক্ষ তখন করতালি ও শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে। শিশুরা আনন্দে ‘হ্যাপি ডে’ ও ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এ সময় এক শিশু প্রধানমন্ত্রীকে কেকও খাইয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শিশু আরিবা। সে বলে, “প্রধানমন্ত্রী আংকেলকে দেখে আমি অনেক খুশি। আমরা একসঙ্গে কেক খেয়েছি। আংকেল খুব ভালো, খুব সুইট।” পরে টেবিলে রাখা উপহার দেখিয়ে সে জানায়, প্রধানমন্ত্রী তাদের উপহারও দিয়েছেন।

ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না প্রধানমন্ত্রীকে শিশুদের যত্ন ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী শিশুদের খাবার ও মানসিক বিকাশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ ধরনের ২০টি ডে-কেয়ার সেন্টার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এখানে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে। বর্তমানে এ কেন্দ্রে ৬০ জন শিশুর নিবন্ধন রয়েছে, যার মধ্যে আজ উপস্থিত ছিল ৫৫ জন।

পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। শিশুরাও হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানায়। নিষ্পাপ শিশুদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসে কিছু সময়ের জন্য যেন রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততা ভুলে যান প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীঅধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন,  প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)