×

কোরবানির হাটে বিরামপুরের চমক, ২০ লাখ টাকার মহারাজা দেখতে মানুষের ঢল

মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল-
‎আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন এলাকার কোরবানির পশুর হাট। আর সেই হাটের আগেই দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। উপজেলার খানপুর দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের খামারি লুৎফর রহমানের খামারে বেড়ে ওঠা প্রায় ১ হাজার ২০০ কেজি ওজনের এই বিশাল ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে মহারাজা। যার সম্ভাব্য দাম ধরা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।

‎দূর থেকে দেখলে যেন ছোটখাটো একটি হাতি! বিশাল দেহ, লম্বা গড়ন আর রাজকীয় চলাফেরার কারণেই এলাকার মানুষ আদর করে নাম দিয়েছে মহারাজা।

‎প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর এই গরুটিকে দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে দেখছেন বিরামপুরের এই বিশাল আকৃতির ষাঁড়টিকে।

‎খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেশায় ড্রাইভার হলেও গরু পালনের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আলাদা আগ্রহ ছিল লুৎফর রহমানের। প্রায় পাঁচ বছর আগে ছোট একটি বাছুর কিনে শখের বসে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের সন্তানের মতো যত্ন, পরিচর্যা আর ভালোবাসায় বড় করে তোলেন মহারাজাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গরুটির আকার-আকৃতি বাড়তে থাকে, আর এখন সেটিই পরিণত হয়েছে এলাকার অন্যতম বড় ষাঁড়ে।

‎খামারি লুৎফর রহমান বলেন, মহারাজা শুধু একটা গরু না, এটা আমার পরিবারের সদস্যের মতো। পাঁচ বছর ধরে অনেক কষ্ট আর মায়া দিয়ে তাকে বড় করেছি। কখনও ক্ষতিকর কিছু খাওয়াইনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার আর নিয়মিত পরিচর্যায় এত বড় হয়েছে। এবার কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। আশা করছি, ভালো দাম পাবো।

‎তিনি আরও জানান, মহারাজার খাবারের তালিকাও বেশ রাজকীয়। প্রতিদিন খড়, ভুট্টা, কাঁচা ঘাস, গমের ভুসি, খৈল, আপেল, কলাসহ ৮ থেকে ১০ ধরনের খাবার খাওয়ানো হয়। শুধু খাবার বাবদই প্রতিদিন খরচ হচ্ছে দুই হাজার টাকারও বেশি। পাশাপাশি নিয়মিত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিচর্যা করা হচ্ছে গরুটির।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল রহমান বলেন,
‎এত বড় গরু আমাদের এলাকায় আগে কখনও দেখিনি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শুধু মহারাজাকে দেখতে আসছে। গরুটি দেখে আমারও গরু পালনের আগ্রহ বেড়ে গেছে।

‎আরেক দর্শনার্থী আহাদ বারি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। গরুটি খুব শান্ত স্বভাবের এবং দেখতে অসাধারণ।

‎বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী জানান, এবার উপজেলায় ৩৯ হাজারেরও অধিক কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া রয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় খামার রয়েছে এবং আমরা নিয়মিত খামারিদের পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে সহযোগিতা করছি।

‎তিনি আরও বলেন, খানপুরের মহারাজা বর্তমানে জেলার অন্যতম বড় ষাঁড়। এ ধরনের বিশাল আকৃতির গরু এ উপজেলায় এবারই প্রথম লালন-পালন করা হয়েছে। গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে, যা স্থানীয় খামারিদেরও অনুপ্রাণিত করছে।

‎ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মহারাজাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ। বিরামপুরের কোরবানির পশুর বাজারে এবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই বিশাল ষাঁড়টি। স্থানীয়দের ধারণা, ঈদের হাটে মহারাজা দেখতে যেমন মানুষের ভিড় হবে, তেমনি দামও উঠতে পারে রেকর্ড পরিমাণ।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)