×

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় ৯১২ মেট্রিক টন বেশি।

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন।

এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়নি। গাছে আম পরিপক্ব হলেই বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ১৪ মে থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুটি ও গোপালভোগ জাতের পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে। চাষিদের আশা, আগামী ২০ থেকে ২৫ মের মধ্যে এসব জাতের আম বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ শুরু হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি মনিরুল ইসলাম জানান, আরও পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে তার বাগানে আম পাড়া শুরু হবে। প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও এ বছর ফলন ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে আমের ওজন নির্ধারণ ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্থানে ৫০ থেকে ৫৫ কেজিকে এক মণ ধরা হয়। এছাড়া কৃষক পর্যায়ে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া আম ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভবান হলেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আমচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলার বৃহত্তম কানসাট আম বাজারের আড়তদার বাবুল মেম্বার জানান, আম কেনাবেচার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ মের পর থেকে বাজারে আম ক্রয় শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. ইয়াছিন আলী বলেন, জেলার আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার আম দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি সুস্বাদু। যদিও এ অঞ্চলের আম কিছুটা দেরিতে পাকে। তিনি জানান, বিভিন্ন বাগান পরিদর্শনে দেখা গেছে খুব শিগগিরই ব্যাপকভাবে আম পাকতে শুরু করবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা বলেন, নিরাপদ আম বাজারজাত ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি জানান, গত ১১ মে আমচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এ বছর কোনো নির্দিষ্ট আম পাড়ার ক্যালেন্ডার নির্ধারণ করা হয়নি। চাষিদের সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমের ওজন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)