×

কলেজছাত্রের উদ্ভাবিত স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ওয়াকিমুল ইসলাম নিজের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা দিয়ে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ স্মার্ট কার, যা ইতোমধ্যে সবার নজর কেড়েছে। তার এই সাফল্যকে উৎসাহ দিতে এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানাতে নিজে উপস্থিত হয়ে গাড়িটি পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট কারটি বিস্তারিতভাবে পরিদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী গাড়িটির প্রযুক্তি, নকশা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং নিজে গাড়িটিতে চড়ে এর অভিজ্ঞতাও নেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও নিজের ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমে এই স্মার্ট কারটি তৈরি করেছেন। জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, সীমিত সম্পদ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে এ উদ্ভাবনটি সম্পন্ন করেন। তার তৈরি এই যানটি মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট কারটি পরিদর্শনকালে তরুণ উদ্ভাবকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার কাজের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম যদি এভাবে উদ্ভাবনী চিন্তায় এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী তরুণদের এমন উদ্যোগ সমাজে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ওয়াকিমুল ইসলামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান এবং তাকে উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজকে সবসময় সমর্থন করা হবে এবং তরুণ উদ্ভাবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা সবাই ওয়াকিমুল ইসলামের উদ্ভাবনকে প্রশংসা করেন এবং এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।

ওয়াকিমুল ইসলাম জানান, ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই তাকে থামাতে পারেনি। সীমিত সুযোগের মধ্যেও তিনি নিজের চেষ্টায় এই স্মার্ট কার তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে এমন উৎসাহ পাওয়াকে তিনি জীবনের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তিনি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিবন্ধী ও সাধারণ মানুষের জন্য উপযোগী যানবাহন ও ডিভাইস তৈরি করতে চান। এজন্য তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। বিশেষ করে যখন প্রধানমন্ত্রী নিজে স্মার্ট কারে চড়েন এবং তরুণ উদ্ভাবকের সঙ্গে কথা বলেন, তখন উপস্থিত সবাই করতালির মাধ্যমে সেই মুহূর্তকে স্বাগত জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ওয়াকিমুল ইসলামের এই উদ্ভাবন বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে। যথাযথ সহায়তা পেলে দেশের অনেক তরুণই প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)