
আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শান্তিরক্ষীরা সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব শান্তিরক্ষী আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বীর শান্তিরক্ষীর আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছেন। তাদের এই অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দক্ষতা, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতার মাধ্যমে তারা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা ও সহনশীলতার ভিত্তিতেই একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির আদর্শকে ধারণ করে একটি উন্নত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
