
একুশ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংস এবং বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পেয়েছে টাইগাররা।
মঙ্গলবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ৫ রান করে আউট হন ওপেনার সাইফ হাসান। তবে অন্য ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলের ভিত শক্ত করেন।
দ্বিতীয় উইকেটে ৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন তারা। এ সময় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তানজিদ। ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৪৪ বলে ৫৪ রান করে নাথান এলিসের বলে বিদায় নেন তিনি। চলতি বছরে এটি তার চতুর্থ ওয়ানডে ফিফটি।
তানজিদের বিদায়ের পর শান্তকে সঙ্গ দিতে নামেন লিটন দাস। লিটন মাত্র ৭ রান করে আউট হলেও নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তুলে নেন শান্ত। তবে বড় ইনিংসের আভাস দিয়েও ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৮৬ বলে ৬৭ রান করে ম্যাট রেনশর শিকার হন তিনি।
১৪০ রানে চার উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন দলের হাল ধরেন। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। হৃদয় ৫১ বলে ৩১ রান করে ফিরলেও অন্য প্রান্তে দুর্দান্ত ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক।
দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর ওয়ানডে একাদশে সুযোগ পাওয়া মোসাদ্দেক ব্যক্তিগত ২২ রানে জীবন পাওয়ার পর সেই সুযোগ কাজে লাগান দারুণভাবে। ৪৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের কার্যকর ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস ৩টি এবং ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট ২টি করে উইকেট শিকার করেন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান।
এরপর কুপার কনোলি ও অধিনায়ক জশ ইংলিশ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি তারা। ইংলিশ ১৯ রান করে ফিরলে তৃতীয় উইকেটে ভাঙে ৪৯ রানের জুটি। পরে কনোলি ৩৫ রান করে মোসাদ্দেকের বলে বোল্ড হন।
এরপর নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং এবং মোসাদ্দেকের কার্যকর স্পিনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে সফরকারীরা। তবে ক্যামেরুন গ্রিন ও অ্যাডাম জাম্পা নবম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ যখন ৯ উইকেটে ১৯১ রান, তখন বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও খেলা আর শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে অপরাজিত ৮৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোসাদ্দেক হোসেন।
এই জয়ে ২০০৫ সালে কার্ডিফে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২৮৪/৮ (৫০ ওভার) — মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮।
অস্ট্রেলিয়া: ১৯১/৯ (৪২.২ ওভার) — গ্রিন ৫২*, ক্যারি ৪৭; নাহিদ ৪/৪১।
ফল: বাংলাদেশ ৮৬ রানে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতি)।
ম্যাচসেরা: মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)।
সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
