
বাংলাদেশ ও জার্মানি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এ বিষয়ে আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তারা উল্লেখ করেন, এই সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক লাভ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তার মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও অংশীদারিত্ব আরও গতিশীল হবে।
উভয় পক্ষ সম্পর্কের নতুন গতি সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপ এবং উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন।
এ সময় ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান জার্মান কর্মকর্তা।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত মনোযোগ ও সমর্থনের আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের গুরুত্বও উঠে আসে। উভয় পক্ষ মনে করে, এ ধরনের চুক্তি বৃহত্তর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশই শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের পক্ষে মত প্রকাশ করে।
এর আগে ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
