
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এ দুর্যোগে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি।
জাতীয় ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সারাঙ্গানি প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় এখনো কেবল হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু জনপদ অন্তত এক সপ্তাহ বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে।
ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। আঞ্চলিক সিভিল ডিফেন্স প্রধান রদ্রিগো সসমেনা বলেন, অব্যাহত পরাঘাতের কারণে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছেন।
জেনারেল সান্তোস শহরের উপকণ্ঠে একটি হাসপাতালে ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ৬০ জনের বেশি রোগীকে বাইরে অস্থায়ী শয্যায় স্থানান্তর করা হয়েছে। একই এলাকায় খোলা মাঠে টাঙানো তাঁবুতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সেখানে এক নারী সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
গ্লান পৌরসভায় ভূমিধসে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে জেনারেল সান্তোসে ধসে পড়া একটি মুদি দোকানের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া দুই কর্মীর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী কুকুর ও বিশেষজ্ঞ দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এবং এএফপি যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জেনারেল সান্তোসে একটি শপিং সেন্টার ও একটি ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ ধসে পড়েছে। এছাড়া একটি স্কুল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চিত্রও ভিডিওতে ধরা পড়ে।
ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ ফিলিপাইন ও প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় এলাকায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত অক্টোবরেও পূর্ব মিন্দানাও অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ ও ৬ দশমিক ৭ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছিল।
