
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলগুলোর একটি ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন সেলেসাওদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গৌরবগাথা, কিংবদন্তি ফুটবলার আর শিরোপা জয়ের ইতিহাস। তবে ২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর শিরোপার দেখা পায়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘হেক্সা’ মিশনে নামছে ব্রাজিল।
রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর হাত ধরে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর বেশ কয়েকবার সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে তারা। গত পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতেই প্রত্যাশার আগেই বিদায় নিতে হয়েছে সেলেসাওদের। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে দলটির ওপর চাপ যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে কোটি সমর্থকের বিশাল প্রত্যাশাও।
এবার ব্রাজিলের দায়িত্বে রয়েছেন ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ইউরোপীয় ফুটবলে অসাধারণ সাফল্যের মালিক এই কোচ ব্রাজিলের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ফুটবলের সঙ্গে কৌশলগত শৃঙ্খলার সমন্বয় ঘটিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য একটাই—ব্রাজিলকে এনে দেওয়া কাঙ্ক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। তুলনামূলক সহজ এই গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা ব্রাজিলের প্রায় ৯৭ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে প্রথম নকআউট রাউন্ডে জাপানের মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল। সাম্প্রতিক সময়ে জাপান বেশ শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবুও অভিজ্ঞতা, সামর্থ্য ও ঐতিহ্যের বিচারে ব্রাজিলই এগিয়ে। এই ধাপ অতিক্রম করার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ।
পরবর্তী রাউন্ডে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে নরওয়ে, যেখানে আক্রমণের প্রধান ভরসা আর্লিং হালান্ড। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটি হতে পারে ব্রাজিলের জন্য বড় পরীক্ষা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের রেকর্ড ইতিবাচক হলেও এমন ম্যাচে সামান্য ভুলও বড় মূল্য চুকাতে বাধ্য করতে পারে।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসতে পারে ফ্রান্স। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের স্মৃতি খুব সুখকর নয়। ফলে এই ধাপটি হতে পারে সেলেসাওদের জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
সব বাধা পেরিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামতে হতে পারে ব্রাজিলকে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বর্তমান শক্তিমত্তা বিবেচনায় ম্যাচটি হতে পারে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথগুলোর একটি।
অপটার পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ব্রাজিলের প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সংখ্যাটি খুব বেশি না হলেও এটুকু নিশ্চিত যে, শিরোপা প্রত্যাশীদের আলোচনায় এখনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নতুন কোচ, নতুন পরিকল্পনা এবং পুরনো স্বপ্নকে সঙ্গী করে ২০২৬ বিশ্বকাপে আবারও ‘হেক্সা’ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে ব্রাজিল।
