×

রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ মিশন, ইতিহাস কি গড়বে পর্তুগাল?

বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে পর্তুগাল এমন এক দল, যাদের ঘিরে প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশছোঁয়া। প্রতিভাবান ফুটবলার, কৌশলগত ফুটবল এবং নাটকীয় সব মুহূর্তে ভরপুর তাদের যাত্রা। কিন্তু এত সাফল্য ও সম্ভাবনার মাঝেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও জেগেছে সেই পুরনো প্রশ্ন—এবার কি ইতিহাস লিখতে পারবে পর্তুগাল?

বিশ্বকাপে পর্তুগালের পথচলা

বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিষেক ১৯৬৬ সালে। প্রথম অংশগ্রহণেই তারা ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয়। কিংবদন্তি ইউসেবিওর অসাধারণ নৈপুণ্যে সেবার তৃতীয় স্থান অর্জন করে দলটি, যা এখনো বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য।

এরপর বেশ কয়েক দশক ওঠানামার মধ্য দিয়ে কাটালেও ২০০২ সালের পর থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে জায়গা করে নিচ্ছে পর্তুগাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল এবং ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা প্রমাণ করে, বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।

ভারসাম্যপূর্ণ দলই সবচেয়ে বড় শক্তি

একসময় পর্তুগালকে এক বা দুই তারকার দল হিসেবে দেখা হলেও বর্তমান দলটি অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। মাঠের প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে মানসম্পন্ন ফুটবলারের উপস্থিতি।

মিডফিল্ডে আক্রমণের মূল সুরকার হিসেবে রয়েছেন Bruno Fernandes এবং Bernardo Silva। তাদের সৃজনশীলতা, পাসিং এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।

রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন Rúben Dias। তার উপস্থিতিতে পর্তুগালের ডিফেন্স আগের চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে।

আর আক্রমণভাগে এখনও সবচেয়ে বড় নাম Cristiano Ronaldo। বয়স বাড়লেও গোল করার তীক্ষ্ণ ক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাকে এখনও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে রেখেছে।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৩৫টি ম্যাচ খেলেছে পর্তুগাল। এর মধ্যে ১৭টিতে জয়, ৬টিতে ড্র এবং ১২টিতে হার এসেছে। দলটি মোট ৬১টি গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে ৪১ গোল।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইউসেবিও। ১৯৬৬ আসরে তার করা ৯ গোল এখনো দেশের বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে পর্তুগালের সবচেয়ে বড় জয় আসে ২০১০ সালে, যখন তারা উত্তর কোরিয়াকে ৭-০ গোলে পরাজিত করেছিল।

যাদের দিকে থাকবে বিশেষ নজর

২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের পারফরম্যান্সের ওপর।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকবেন Cristiano Ronaldo। সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপে তিনি দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য নিয়ে নামবেন। তার পাশাপাশি Bruno Fernandes-এর প্লেমেকিং, Bernardo Silva-র সৃজনশীলতা এবং Rúben Dias-এর রক্ষণ নেতৃত্ব দলটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া এই দলটিকে অনেক বিশ্লেষক পর্তুগালের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড হিসেবে বিবেচনা করছেন।

মার্টিনেজের কৌশলেই স্বপ্নের পথচলা

বর্তমান পর্তুগালের রূপকার কোচ Roberto Martínez। তার অধীনে দলটি আরও আক্রমণাত্মক, সংগঠিত এবং কৌশলগত ফুটবল খেলতে শিখেছে।

মার্টিনেজের দর্শন শুধু ফলাফল অর্জন নয়; ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে পরিকল্পিত ফুটবল খেলা। তার কৌশলগত সিদ্ধান্ত, ফর্মেশন পরিবর্তনের দক্ষতা এবং ম্যাচ ব্যবস্থাপনা পর্তুগালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

২০২৫ সালে তার নেতৃত্বে ইউরোপিয়ান নেশনস লিগের শিরোপা জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে দলটি। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের স্বপ্নপূরণের যাত্রায় ডাগআউট থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন এই স্প্যানিশ কোচ।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে পর্তুগাল কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। কিন্তু অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং কৌশলী কোচের সমন্বয়ে এবার তাদের সামনে নতুন এক সুযোগ অপেক্ষা করছে। আর যদি সেটিই হয় রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ, তবে ট্রফি জিতে বিদায় নেওয়ার চেয়ে বড় গল্প আর কী হতে পারে?

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)