
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক সহায়তা ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তুরস্ক। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আঙ্কারা।
আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত ও গভীর করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, সম্পর্ককে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে আরও কৌশলগত ও দূরদর্শী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় তুরস্ক।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ফিদান বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা ও ড. রহমানের অভিজ্ঞতা তাকে দায়িত্ব পালনে সফল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি ড. রহমানের তুরস্ক সফরের কথা উল্লেখ করে ফিদান বলেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের অভিন্ন সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে দুই দেশ। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার অন্যতম খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও তুরস্ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।
বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর’ উল্লেখ করে ফিদান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা ইস্যুকে সক্রিয় রাখতে এবং তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
ফিদান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি তুরস্কের বিভিন্ন মানবিক সংস্থার কার্যক্রমও পরিদর্শন করবেন।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হরমুজ প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধ-পূর্ব স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গাজা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিদান অভিযোগ করেন, ইসরাইল যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি সংঘাত বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ফিদান বলেন, নতুন উদ্যোগ ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশ দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক পরিসরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করবে।
