
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রধান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঈদুল আজহার কয়েক দিন পরই এমন বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাজারের দক্ষিণাংশে ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ীদের একটি দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আগুন লাগার পর ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও দোকানগুলোতে থাকা দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগুনে ৮০টি কাপড়ের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া জাকের পার্টির স্থানীয় কার্যালয়সহ আরও ১৫টি ফল, জুতা, কসমেটিকস ও বইয়ের দোকান ভস্মীভূত হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে ব্যবসার ব্যস্ততা ছিল, সেখানে এখন শুধু পোড়া টিন, ছাই এবং ধ্বংসস্তূপের স্তূপ। অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজে ফেরেন।
ক্ষুদ্র কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি টুটুল মিয়া বলেন, বাজারের অধিকাংশ ব্যবসায়ী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। ঈদ উপলক্ষে অনেকেই নতুন করে বিপুল পরিমাণ মালামাল সংগ্রহ করেছিলেন। আগুনে সবকিছু পুড়ে যাওয়ায় তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার দাবি জানান তিনি।
নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খলিলুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্যমতে ৯৫টি দোকান পুড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বিকেল ৩টায় একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় তাদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
