
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেছেন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না। জনশক্তি রপ্তানি খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল হক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্পষ্ট করে বলে আসছেন যে, কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর।
তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য একটি সমন্বিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ড চালু হলে আলাদা করে বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন হবে না। একটি কার্ডের মাধ্যমেই প্রবাসীরা সব ধরনের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
রাশিয়ায় মানবপাচার এবং কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের অনুমোদন ছাড়া কোনো কাগজপত্র বা কার্ড ইস্যু করা হয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।
প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা তাদের সমস্যা, বিনিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা প্রশাসনিক হয়রানির বিষয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরিফুল হক বলেন, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক প্রবাসী ই-মেইল ব্যবহারে অভ্যস্ত নন। তাই হোয়াটসঅ্যাপসহ সহজ যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমবাজার চালু হলে তা হবে স্বচ্ছ ও সিন্ডিকেটমুক্ত। অতীতের মতো কোনো গোষ্ঠীকে একক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে না।
প্রবাসীদের জন্য চালু হতে যাওয়া ‘প্রবাসী কার্ড’-এর মাধ্যমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং সুবিধা, ডিজিটাল পরিচয়, ভূমিসংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিষয়গুলো বর্তমানে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ১০১টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে না পারলে নিজেকে সফল মনে করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে আরিফুল হক বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, আপনারা তথ্য দিন, আমরা ব্যবস্থা নেব। কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
