
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর এলাকায় পৃথক অভিযানে মাদক মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৭ মে) রাতে রেলস্টেশন-কেডিসি সড়ক এলাকা থেকে মোছা. মনি ওরফে সাথী (২৫) এবং একই দিন সন্ধ্যায় ইসলামপাড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মোছা. মাহফুজা বেগমকে (৩৮) আটক করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শান্তিনগর চকপাড়ার শহিদ মিয়ার মেয়ে মনি ওরফে সাথীর বিরুদ্ধে ১১টি এবং ইসলামপাড়ার সেলিমের স্ত্রী মাহফুজা বেগমের বিরুদ্ধে ৮টি মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরামপুরের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক কেনাবেচার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতা, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কিছু পরিবারের একাধিক সদস্য মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে জড়িত থাকায় মাদক ব্যবসা পুরোপুরি নির্মূল করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শুধু বিচ্ছিন্নভাবে গ্রেফতার নয়, বরং পুরো চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাদক মামলার আসামির স্বজন জানান, একবার এই চক্রে জড়িয়ে পড়ার পর অনেকের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। একাধিক মামলার ব্যয়, পারিবারিক চাপ এবং বিকল্প আয়ের অভাবে কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হওয়ার পরও পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন বলে দাবি করেন তারা।
তবে সচেতন মহলের মতে, আর্থিক বা সামাজিক সংকট কোনোভাবেই অপরাধের বৈধতা দিতে পারে না। মাদক প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, “পুরো বিরামপুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক মাদক মামলার আসামি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু পরিবারের একাধিক সদস্যও মাদক মামলায় জড়িত। মাদকের বিরুদ্ধে বিরামপুর থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও জোরদার করা হবে।”
