×

২০ জুন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

আগামী শনিবার (২০ জুন) জাতীয় স্টেডিয়ামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে কেবল পাঠ্যবইনির্ভর না রেখে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, গণিত ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিশু-কিশোরদের সুস্থ বিকাশ, নেতৃত্বগুণ ও আত্মবিশ্বাস তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ প্রতিযোগিতায় এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী, চার লাখের বেশি শিক্ষক এবং কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আয়োজন জাতীয়ভাবে আরও বেশি প্রচার পাওয়া প্রয়োজন, যাতে দেশের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের সাফল্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়।

তিনি জানান, গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজন কিংবা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার বিষয়ে কাজ চলছে।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

শিক্ষা সংস্কার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কেবল খেলাধুলা বা সংস্কৃতির ওপর নয়, ভাষা শিক্ষা, গণিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করতে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ম্যাথ ল্যাব’ স্থাপন এবং বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে আধুনিক বিজ্ঞানাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল ও ট্যাবনির্ভর জীবনধারা থেকে বের করে সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীল কার্যক্রমকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতোমধ্যে বড় পরিসরে ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুশাসন ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে বিভিন্ন গভর্ন্যান্সভিত্তিক প্রতিযোগিতাও চালু করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে বিদ্যালয়ে প্রবেশ থেকে বের হওয়া পর্যন্ত আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই ‘হ্যাপিনেস ক্লাসরুম’ ধারণা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। শিক্ষাকে আনন্দদায়ক, অংশগ্রহণমূলক ও বাস্তবমুখী করার মাধ্যমে আগামী দিনের দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)