
ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংযম প্রদর্শনের আহ্বান সত্ত্বেও সোমবার এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, হামলার আগে ট্রাম্প ইসরাইলকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেই ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায় ইসরাইল।
এদিকে ইসরাইল-ইরান সংঘাতের ১০০তম দিনে নতুন এ হামলা গত ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতিকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে সংঘাতের অবসানে একটি সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত সে প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানসহ দেশের অন্তত তিনটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলের দাবি, রোববার ইরান থেকে ছোড়া ১১টি ক্ষেপণাস্ত্রের জবাব হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ইসরাইলের মতে, সব ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকাতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সংযত রাখার চেষ্টা করছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি চেয়েছিলেন, ইসরাইল যেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা না চালায়।
ইসরাইলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তেহরান ‘গুরুতর ভুল’ করেছে এবং তারই প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ডাকনাম ব্যবহার করে বলেন, “আমি এখনই বিবি বা নেতানিয়াহুকে ফোন করব এবং তাকে প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে বিরত থাকতে বলব।”
তিনি আরও বলেন, উভয় পক্ষই ইতোমধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। তাই নতুন করে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়াই উত্তম, কারণ তা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে।
