
বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত বিশ্ববাজারে ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা ও অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করা গেলে দেশের ওষুধ রপ্তানির পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীত সরকারগুলোর আমলে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন উৎপাদন-সরবরাহ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। এমনকি ভেন্টিলেটর ও সিরিঞ্জের মতো জরুরি চিকিৎসা উপকরণেরও ঘাটতি ছিল। তবে পরবর্তীতে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় গুদামে এক লাখ ইউনিট স্যালাইন মজুত রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে আরও দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে সরকার আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
