
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।
গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা থাকবেন প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকায়।
কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ডিজিএফআই মহাপরিচালক, এনএসআই মহাপরিচালক, বিজিবি মহাপরিচালক, এনটিএমসি মহাপরিচালক, র্যাব মহাপরিচালক এবং পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপিকে।
এ ছাড়া সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা। প্রয়োজনে তাদের কমিটির সভায় আহ্বান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকেও সহায়তাকারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করা, সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম তদারকি করবে এ কমিটি।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও কার্যক্ষেত্র নির্ধারণ, প্রচলিত আইন-বিধি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সংস্কার বা নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশও করবে কমিটি।
নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও নির্দেশনা প্রদানের দায়িত্বও থাকবে কমিটির ওপর।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো সংস্থার কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কো-অপ্ট করা যাবে।
কমিটির সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই)। সংস্থাটি প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেবে। তবে ভবিষ্যতে কমিটির সিদ্ধান্ত ও সভাপতির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য কোনো গোয়েন্দা বা আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাকেও সচিবালয়ের দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্মারকের ধারাবাহিকতায় জারি করা এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
