
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সীমান্তের ৮৭৫ নম্বর প্রধান পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট সৌরভ। বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার ঘটনায় বৈঠকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
জবাবে বিএসএফ দাবি করে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে টহলরত সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি ছোড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ মৃত্যুর ঘটনায় বিএসএফ কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলী হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ধবলগুড়ি পানিয়ারটারী এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রেখে গেছেন।
স্থানীয় সূত্র, সীমান্তবাসী ও বিজিবি জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা থানার সাতগ্রাম সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন বাংলাদেশি গরু পারাপারকারী প্রবেশ করেন। এ সময় ফালাকাটা বিএসএফ সেক্টরের ১৫৬ ব্যাটালিয়নের সাতমাথা ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থলেই আলী হোসেন নিহত হন। পরে বিএসএফ তার মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের ধবলগুড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তে অবস্থান নেয় এবং পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়।
বর্তমানে মরদেহটি মাথাভাঙা থানা পুলিশের কাছে রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, “মানুষের মুখে শুনেছি, রাতে সীমান্তে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে আমার ভাই নিহত হয়েছেন। তবে ঠিক কী ঘটেছে, তা আমরা জানি না।”
জোংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “রাতে সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি আলী হোসেন নামে আমাদের ইউনিয়নের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।”
৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, “বিএসএফের গুলিতে এ ধরনের মৃত্যু কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সেক্টর ও রিজিয়ন সদর দপ্তর থেকেও কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
