
চীনের শীর্ষ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অনুদান হিসেবে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা প্রদান করেছে।
বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এ টিকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লী নিংসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী টিকা অনুদানের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের এই সময়ে পাশে দাঁড়িয়ে চীন আবারও বন্ধুত্বের পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু, পোলিও ও হামের মতো বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি আরও জানান, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি শিগগিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লী নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে তারা গর্বিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশনপ্রাপ্ত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ এসআইপিভি পোলিও টিকা অনুদান দিতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি আনন্দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পোলিও নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় সিনোভ্যাক।
উল্লেখ্য, সিনোভ্যাকের তৈরি ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও টিকার চালান ইতোমধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে। সেখান থেকে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে।
সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এ টিকা সরবরাহ করে আসছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ইপিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
