
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাঁর নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশের চিন্তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের কারিগর।’
মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বই মেলা-২০২৬’-এর ষষ্ঠ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি আজ যে পর্যায়ে উপনীত হয়েছে, এর নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া। তবে ত্যাগ, পরিশ্রম ও আন্দোলন-সংগ্রামের বড় অংশের অর্জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। এই ক্যাম্পাসেই প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন অত্যন্ত উদার এবং দেশ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাশীল। ছাত্রদল গঠনের মধ্য দিয়ে তিনি এর প্রমাণ রেখেছেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সময় জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন এবং অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নেতা।
এ্যানি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর যারা দেশের দায়িত্ব নিয়েছিল, ১৯৭২, ১৯৭৩, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে তাদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের পর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মহান বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি এবং বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছি, আমরা কখনো রাজনীতির মাঠে প্রতিপক্ষকে নিয়ে অশালীন শব্দচয়ন বা গালিগালাজ করতে দেখিনি। শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তখনও এমন অশালীন ভাষা দেখা যায়নি।
মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ৫ আগস্টের পর পাটওয়ারী-সিফাত গংদের অশালীন উক্তি এবং তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে শিষ্টাচারবহির্ভূত ও নীতিবর্জিত গালিগালাজ করা হয়েছে। এটি সুস্পষ্ট অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধীদলকে নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ এত সাহস পায়নি, যে সাহস আজকে তারা দেখাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৬ সালে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বৈরাচারকে শেল্টার দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে তারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করে জাতিকে বারবার কষ্ট দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ওই পাড়ের একটি যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আ ন ম সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম বুলবুলসহ অনেকে।
