
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে বাজারের চাহিদা বিবেচনায় যুগোপযোগী ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্স ও দক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট সমিতি ও সংস্থাগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিগুলোর মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়ি-সমতল এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দ্রুত ও সহজে বাজারজাত করা যায়, সে জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সিড মানি (প্রাথমিক মূলধন) এবং বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গরূপে সচল করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর সব প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্য এমআইএসে (MIS) যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিকাশমান ‘কেয়ার ইকোনমি’তে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা দিতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিদ্যমান শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও বলেন তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ অনুদান হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৯১৮টি সমিতিকে ৮ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ৬০০ টাকা, ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে ৪০টি জেলার ৭০টি সমিতিকে ৩৫ লাখ টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২১টি জেলার ৬৯টি সমিতিকে ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
