
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগে নয়, সমাজের সকল স্তরের অংশগ্রহণ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ এখন একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর ফলে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, মনোযোগের ঘাটতি এবং শিশু ও বয়স্কদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, একজন চালকের ব্যবহৃত হর্ন অনেক সময় তার নিজের এবং অন্যদের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত হর্ন ব্যবহারের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একক কোনো প্রকল্প যথেষ্ট নয়। এ জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে একটি শব্দদূষণমুক্ত দেশে পরিণত করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের নির্দিষ্ট অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সচিবালয়, আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা এবং বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক এলাকাও নীরব এলাকা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৫০০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭ হাজার ২৯৭টি মামলায় ১ কোটি ৮ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় এবং প্রায় ৭ হাজার হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ সচিব মো. রায়হান কাওছার বলেন, সংশ্লিষ্ট খাতের চালক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনলে শব্দদূষণ আরও কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালা শেষে মন্ত্রী ‘সার্ভে রিপোর্টস অন নয়েজ লেভেল মেজারমেন্ট ইন ৬৪ ডিস্ট্রিক্টস টাউন’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
