
বিশ্বকাপ মানেই চমক আর অঘটনের মঞ্চ। বাছাইপর্বে ইতালির মতো পরাশক্তিকে বিদায় করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও আরেকটি চমকের স্বপ্ন দেখছিল। ম্যাচের ৭৩ মিনিট পর্যন্ত তাদের দৃঢ় রক্ষণভাগ ও লড়াকু মানসিকতা সেই স্বপ্নকে জিইয়ে রেখেছিল। তবে শেষ ১৭ মিনিটে সুইসদের ঝড়ো ফুটবলে সব হিসাব পাল্টে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেয় সুইজারল্যান্ড।
পুরো ম্যাচজুড়ে আক্রমণে আধিপত্য বজায় রাখলেও বসনিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল সুইসদের। ম্যাচের ৭১ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জোহান মানজাম্বি। আর তার নামার পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে জালের দেখা পান মানজাম্বি, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। সেই গোলের পরই যেন ভেঙে পড়ে বসনিয়ার রক্ষণ।
৮০ মিনিটে ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর সুইস আক্রমণের সামনে আর টিকতে পারেনি তারা। ৮৪ মিনিটে রুবেন ভার্গাস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ৯০ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ থেকে বসনিয়ার ফেরার সব সম্ভাবনা শেষ করে দেন মানজাম্বি।
যোগ করা সময়ে এরমিন মাহমিচ একটি সান্ত্বনাসূচক গোল শোধ দিলেও তা ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক গ্রানিত জাকার পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে নকআউট পর্বে ওঠার পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল সুইজারল্যান্ড। অন্যদিকে পরাজিত হলেও শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় লড়াই করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা তাদের লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দিয়েছে।
