
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার কার্যক্রম, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও বৈঠকে অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ কমানো, ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয়ের কাজ শেষ হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আদায়-অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ প্রণয়নের কাজ চলছে।
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।
গভর্নর আরও জানান, ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার আরও ত্বরান্বিত হবে।
এ ছাড়া ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিদেশে চিকিৎসার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তির বিষয়ে গভর্নর বলেন, নির্ধারিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত অনুমোদন দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইউপিএএস সুবিধার আওতায় বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তহবিলের সুদের হার কমানো হয়েছে, যা আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। দেশের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন, সংস্কার ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
