
নারী ও শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য, সহিংসতা ও অন্যায় দূর করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অপরিহার্য।
শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনস্থ পুলিশ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব গুলশান অ্যাভিনিউ ‘ডিডিসি সন্ধানী’-এর কাছে একটি আধুনিক ব্লাড স্টোরেজ রেফ্রিজারেটর এবং চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম হস্তান্তর করে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ রক্ত সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রক্ত সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ করা গেলে থ্যালাসেমিয়া, ডেঙ্গু, সড়ক দুর্ঘটনা এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় রক্ত ও চিকিৎসা সহায়তা পাবেন। তিনি এ উদ্যোগকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা, ভাষা প্রশিক্ষণ এবং কেয়ারগিভার উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সামাজিক অবক্ষয় রোধে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতনের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হুসাইন ফকির এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন। এছাড়া রোটারি ক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বক্তারা সমাজসেবামূলক উদ্যোগ সম্প্রসারণ, মানবিক কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
