
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় নতুন করে ভর্তি নেওয়ার প্রথা বন্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক (মিলন)। তিনি বলেন, ‘এক মুরগি তিনবার জবাই করা যাবে না—শিক্ষা ক্ষেত্রে একবারই রেজিস্ট্রেশন যথেষ্ট।’
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সোমবার দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, শ্রেণি পরিবর্তনের সময় নতুন করে ভর্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করতে হবে এবং এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষার মান ও নকল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন বদলেছে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে তা হচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আজকের ছাত্রছাত্রীরা নকল করলে সেটি শিক্ষকদের দুর্বলতা। সমস্যাটা আমাদের মানসিকতায়।’
শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কেবল মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অন্য মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলসহ সব সংসদ সদস্যকে প্রতিদিন শিক্ষা নিয়ে আলোচনা এবং সংসদে শিক্ষাবিষয়ক নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে নকল প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালের পর কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে নকল অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে নকল আবার নতুনভাবে বিস্তার লাভ করেছে। এটি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
দেশব্যাপী মতবিনিময় কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই উদ্যোগে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন, আবার অনেকে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে সংসদ সদস্যদের আন্তরিকতা তাকে আশাবাদী করছে। অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় যশোরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাইড বই জব্দ করা হয়েছিল, যা এখনও অব্যাহত থাকলে আরও বেশি উদ্ধার সম্ভব।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগমসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকেরাও সভায় অংশ নেন।
