
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশায় আগামী সপ্তাহে সাধারণ নির্বাচনে যাচ্ছে বুলগেরিয়া। গত পাঁচ বছরে এটি দেশটির অষ্টম নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের নতুন জোট এগিয়ে থাকতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে নয় বছর দায়িত্ব পালন শেষে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান রাদেভ। এরপরই তিনি মধ্যপন্থী বাম ঘরানার ‘প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া’ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতিবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে রক্ষণশীল সরকার পদত্যাগ করলে এই আগাম নির্বাচনের পথ তৈরি হয়। প্রায় ৬৫ লাখ মানুষের দেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য বুলগেরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির অভিযোগ বিদ্যমান।
২০২১ সালে টানা ক্ষমতায় থাকা রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বয়কো বোরিসভ দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করার পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। এরপর থেকে কোনো সরকারই এক বছরের বেশি স্থায়ী হতে পারেনি।
ইইউ’র কিছু নীতির সমালোচক রাদেভ প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাচ্ছেন বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে তিনি নিজেকে ‘অলিগার্কি শাসনব্যবস্থা’ বিরোধী হিসেবে তুলে ধরেন।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আহ্বান এবং ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানোর বিরোধিতার কারণে রাদেভ সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্বে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ইউক্রেনের ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তিরও সমালোচনা করেছেন তিনি। বিরোধীদের অভিযোগ, রাদেভ রাশিয়ার প্রতি অতিরিক্ত সহনশীল।
এছাড়া ইউরোজোনে যোগদানের আগে গণভোটের আহ্বান এবং ইইউর গ্রিন ডিল নীতির সমালোচনাও করেছেন রাদেভ। তার মতে, বুলগেরিয়া এখনও ইউরোপীয় একক মুদ্রায় যোগদানের জন্য প্রস্তুত নয়।
আলফা রিসার্চের বিশ্লেষক বোরিয়ানা দিমিত্রোভা জানান, রাদেভের জোট ইউরোপ-বিরোধী ও রাশিয়াপন্থী ভোটারদের পাশাপাশি ছোট শহর ও গ্রামের তরুণদেরও আকৃষ্ট করছে।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল জিইআরবি দল, যারা জনমত জরিপে ২০ শতাংশের কিছু বেশি সমর্থন পাচ্ছে। দলটি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের আগে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে ৫ লাখ ইউরোর বেশি নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে এবং দুই শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মুদির দোকান ও সেলুনের বকেয়া পরিশোধ কিংবা সরাসরি নগদ অর্থ বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবার ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে রাদেভ লাভবান হতে পারেন। ২৪০ আসনের পার্লামেন্টে তিনি শতাধিক আসন পেলে তুলনামূলক কম সমঝোতায় জোট সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে।
তবে নতুন সরকারকে দুর্বল বিচারব্যবস্থা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকট এবং প্রশাসনিক অস্থিরতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমানে প্রধান প্রসিকিউটরসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বুলগেরিয়ার অবস্থান ৮৪তম, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ।
