
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সঠিক পথে এনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন। দেশের মানুষের কাছে তাঁর আহ্বান, “আমাদের সেই সময়টুকু একটু দিন।” তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর কাট্টলীতে নিজ বাড়ির দারুস সালাম জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, কোরবানির ঈদে সাধারণত জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও এবার তা কমেছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মূল্যস্ফীতি রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হবে। দেশের অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, অর্থনীতির সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উন্নয়নের সুফল থেকে জনগণ বঞ্চিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে একটি দুর্বল অর্থনীতি পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
আশাবাদ ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, “আমরা ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”
ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু পশু কোরবানির উৎসব নয়, এটি আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ত্যাগের মানসিকতা ধারণ করতে পারলেই একটি সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সমাজে পারস্পরিক সম্মান, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে সবাই সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।
