×

স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট হয়েছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যাপকভাবে লুটপাট হয়েছে। প্রয়োজনীয় টিকা আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সংগ্রহ না করে ব্যক্তিগত স্বার্থে নানা ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আজ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত দামে আমদানি করা বহু রেডিওথেরাপি মেশিন বিভিন্ন হাসপাতালে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে, যার অনেকগুলো এখন অকেজো হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা এখনও অপর্যাপ্ত। সীমিত জনবল ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুলনা ও ফরিদপুরসহ বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, জনবলের চাহিদা অনুযায়ী কোনো কার্যকর কাঠামোগত পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি। অত্যন্ত সীমিত সক্ষমতার মধ্যে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম না হওয়ায় দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। পরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সরকার দ্রুত টিকা সংগ্রহ করে দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ২ কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, শুধু ক্যাম্পেইন শেষ করেই সরকার থেমে নেই; উপজেলা পর্যায়ে এখনও যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের খুঁজে বের করে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুত করা হয়েছে।

জনবল সংকট নিরসনে আগামী জুলাই থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার নিয়োগের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে হাসপাতালগুলোতে ডায়ালাইসিস মেশিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।

হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, জমে থাকা পানি, ময়লা-আবর্জনা ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো মালামাল দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি না থাকে।

বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক, ভুয়া চিকিৎসক এবং অনিয়মিত সিজারিয়ান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আউটসোর্সিং ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থায় টেন্ডার ও নিয়োগে নানা ধরনের দুর্নীতি ঘটে। সরকার বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. মাজহারুল ইসলাম, সোহানা নাসরিন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এবং হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)