×

এক-এগারোর সময় তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল: অতিরিক্ত প্রেস সচিব

এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখনও সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা, আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন, তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি, প্রতিশোধ নিতে যাই, তাহলে পাঁচ বছরেও শেষ হবে না।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘পাঁচ বছরে যদি আমরা সেই প্রতিশোধগুলোই নিতে যাই, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের প্রিয় নেতাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের যে আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হবে না।’

তিনি বলেন, ‘তাই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান চান, দুঃসহ স্মৃতিগুলো পেছনে ঠেলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যেতে।’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও বলেন, বিগত সময়ে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, ঠিক ওই সময় তাদের প্রিয় নেতাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন প্রধানমন্ত্রীর ভালো কাজগুলো ব্যর্থ না হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন সবাই, বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতারা, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সফল করতে পারি।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, এ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এর প্রমাণ রেখেছে। তারা স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান-ইলেভেনের সরকারকে হটিয়েছে। সর্বশেষ ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ে আন্দোলন করে শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচারকে হটিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের প্রিয় নেতার ১৯তম কারামুক্তি দিবসে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে দুঃসময়ের করুণ কথাগুলো। বিগত ১৯ বছরে এই দিবসটি যথাসময়ে আমরা পালন করেছি। আজও পালন করছি। কিন্তু আজকের চিত্র আর ওই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না।’

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘আমরা কীভাবে সে সময়ে অনুষ্ঠান সফল করেছিলাম, আপনারা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। সে সময় এই দিবস পালন করতে গিয়ে স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি, কারাবরণসহ বিভিন্নভাবে আপনারা নির্যাতিত হয়েছেন। তবুও চুপ থাকেননি।’

তিনি বলেন, আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দিবসটি পালনে যথাযথ সহযোগিতা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান হবে—আমরা সাংবাদিকদের জানিয়েছি এবং বিশ্বস্ত নেতাদের জানিয়েছি। আমরা অনেকটা গোপনে ডেকেছি, প্রশাসনকে জানতে দিইনি কোথায়, কখন অনুষ্ঠান হবে।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘সাংবাদিকদের জানিয়েছি দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে। ওই সময় অনেক সাংবাদিকের কথা মনে পড়ে, যারা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন, যা অতুলনীয়। যাদের সহযোগিতায় আমরা প্রচার পেয়েছি, উদ্দীপনা পেয়েছি এবং অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে পেরেছি।’

আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিবসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)