×

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি জোরদার

পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সম্প্রতি তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত টহল, নজরদারি ও সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ে যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সমন্বিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সম্প্রীতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী মাঝে মধ্যে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের অপচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

আগামী ৯ আগস্ট বিশ্ব আদিবাসী দিবসকে সামনে রেখে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে, যার প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাইবার পেট্রোলিংও পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে কোনো উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে সম্প্রীতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করছে। কেউ পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে বিভেদ বা সংঘাত সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সবার প্রত্যাশা। পাহাড়ি ও বাঙালি—সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সবাই একযোগে কাজ করছে।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)