
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, লিগ্যাল এইড সেবা সম্প্রসারণে আইনজীবী ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্ধারিত ফি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক দক্ষ ও অভিজ্ঞ আইনজীবী লিগ্যাল এইড প্যানেলে কাজ করতে আগ্রহী হন না। পাশাপাশি মামলা পরিচালনা, কোর্ট ফি ও নথি সংগ্রহের মতো প্রাথমিক ব্যয়ের চাপও আইনজীবীদের ওপর পড়ে।
তিনি জানান, এ বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং তা আরও যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দরিদ্র, অসচ্ছল ও বিচারপ্রাপ্তিতে অসমর্থ জনগণকে আইনি সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা সম্প্রসারণে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’কে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এ উন্নীত করা হয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ও ইউএনডিপির যৌথ উদ্যোগে ডিজিটাল লিগ্যাল এইড প্রকল্পের আওতায় ৩০০টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন পোর্টাল চালু এবং ১৬৬৯৯ টোল-ফ্রি হেল্পলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক, গণশুনানি, পথনাটক, সেমিনার, লিফলেট বিতরণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবসও পালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারি এনজিওগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সমন্বয়ে কিছু কারিগরি ও আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে ডেটা শেয়ারিং নীতিমালার অভাব, পৃথক কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত ও নিরাপদ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ করছে।
