×

হাকিমপুরে জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক-
“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। দেশীয় ও বিদেশি নানা জাতের ফলের সমারোহে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি কার্যালয় চত্বরে তিন দিনব্যাপী এ ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর অতিথিরা প্রদর্শিত ফল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মেলায় উপজেলার বিভিন্ন কৃষক, নার্সারি মালিক, উদ্যোক্তা ও কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। তাদের স্টলে স্থান পায় আম, লিচু, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, জামরুল, কুল, ডালিম, লেবু, মাল্টা, কমলা, আঙুর, ড্রাগন ফল, সফেদা, আমড়া, বেল, নারিকেল, তাল, খেজুর, বরই, করমচা, জলপাই, স্ট্রবেরি, অ্যাভোকাডোসহ বিভিন্ন মৌসুমি ও অপ্রচলিত ফল।
রঙিন ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো স্টলগুলো ঘুরে দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী উদ্যোক্তা এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা। অনেকেই ফলের গুণাগুণ, চাষাবাদ পদ্ধতি ও বাজার সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ফল মেলা শুধু কৃষকদের উৎসাহিত করে না, এটি মানুষের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু-কিশোরদের ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত এমন মেলার আয়োজন হলে কৃষি ও পুষ্টি উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, ফল মানুষের ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কৃষকরা প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। নিরাপদ, বিষমুক্ত ও পুষ্টিকর ফল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষির বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফল চাষের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ফল চাষ সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশীয় ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলও আমাদের দেশে সফলভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হলে ফল উৎপাদনে আরও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, ফল উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীরা জানান, একসঙ্গে এত ধরনের দেশীয় ও বিদেশি ফল দেখার সুযোগ খুব কমই পাওয়া যায়। ফল মেলার মাধ্যমে নতুন নতুন ফল সম্পর্কে জানার পাশাপাশি ফল চাষে আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য, পুষ্টিগুণ ও কৃষি সম্ভাবনাকে তুলে ধরার এ আয়োজন কৃষক, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ স্থানীয় কৃষি উন্নয়ন ও পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)