×

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে চায় সরকার: মির্জা ফখরুল

জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ যেকোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে বিরোধী দলকে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে দুঃখজনকভাবে বিরোধী দল আওয়ামী লীগের মতো বক্তব্য দিতে শুরু করেছে।

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বহু মানুষ আন্দোলন করেছেন। অনেকে বুকের রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন, অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল হিসেবে দলমত নির্বিশেষে সব দলের নেতাকর্মীদের ত্যাগকে সম্মান করে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ২৫ হাজার মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। বিনাবিচারে নেতাকর্মীদের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ ২০ হাজার নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে দিনের পর দিন মিথ্যা মামলায় বন্দী রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ১৮ বছর নির্বাসিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এসে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিদায় নেয়। জুলাইয়ের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি যেসব বিষয়ে স্বাক্ষর করেছে, সেগুলো অবশ্যই পূরণ করা হবে। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের যেসব প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো সংসদে আলোচনা হবে। রাষ্ট্র মেরামতে বিএনপি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে তা হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিরোধী দলও আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। এটি ঠিক হচ্ছে না এবং এর মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এমন একটি দল, যারা সংস্কারের মধ্য দিয়ে গেছে। দেশে যতবার স্বৈরাচার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া সেগুলো পুনরায় মেরামত করেছেন।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপিই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে। একইভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে মুক্তবাজার অর্থনীতির পথ তৈরি এবং বেসরকারি খাতকে সামনে নিয়ে আসার কাজও বিএনপি করেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এখন দেশ গড়ার নতুন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া অর্থনীতি সংস্কার করা। ১৭-১৮ বছরের ফ্যাসিবাদ ও লুটপাটের পর নতুন করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতি যখনই ধ্বংস হয়েছে, বিএনপি সেখান থেকেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

গণভোট নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনটি বিষয়ে বিএনপি একমত হয়েছে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের একটি প্রস্তাব নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। সেটিও বিএনপি জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করেছে এবং ভোটে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারে আসার পর জুলাই ঘোষণার প্রতিটি অংশ, যেগুলোতে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কাজ হয়েছে। সংসদে জুলাই সংশোধনী নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন শব্দ ও বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সেগুলোও সংস্কার করা হবে।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংসদে এসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেসব জায়গায় সমাধান সম্ভব, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। সরকারকে সময় ও সুযোগ দেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস কয়েকদিন। এর মধ্যে সবকিছু ঠিক করে ফেলা সম্ভব নয়। ইতিবাচকভাবে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)