×

বুড়িগঙ্গা-তুরাগের দূষণ বন্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে: পরিবেশমন্ত্রী

বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালগুলোতে শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে শিল্প মালিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারখানার দূষিত পানি যাতে খাল বা নদীতে না পড়ে, সেজন্য কার্যকর বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন জরুরি। দেশের সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। দেশে কল-কারখানা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সমন্বিতভাবে কোনো কাজ না করলে তা টেকসই হয় না।’

সভায় দেশের শীর্ষ শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়।

জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ইটিপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বুড়িগঙ্গাকে টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা। সবাই মিলে কাজ করলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যাকে লন্ডনের টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি তুরাগের উজানে নদী দূষণ রোধেও কাজ করা হবে। গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ২২৪টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি উৎসমুখ রয়েছে। এসব উৎসমুখের সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট।

সভায় শিল্পবর্জ্যের উৎসভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করা, অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত করে বন্ধ করা এবং খাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া খাল ও ড্রেনেজের পাশে প্রয়োজন অনুযায়ী এসটিপি, ইটিপি ও ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্ল্যান্ট স্থাপনে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টিও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পবর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্যের উৎসমুখ বন্ধ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)