×

ইনজুরি টাইমে মেরিনোর গোলে পর্তুগালকে বিদায়, কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর ইনজুরি টাইমের গোলে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ম্যাচের আগের দিনই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ।

৭০ হাজার ৬৪৯ দর্শক উপস্থিত থাকলেও কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় এই লড়াই মাঠে খুব বেশি রোমাঞ্চ ছড়াতে পারেনি। ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাস থেকে মিকেল মেরিনো বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে জয় এনে দেন।

দুই প্রতিবেশী দেশই অপরাজিত অবস্থায় শেষ ষোলোতে খেলতে নামে। তবে পর্তুগাল প্রত্যাশিত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারেনি। অন্যদিকে স্পেন টুর্নামেন্টে নিজেদের দুর্দান্ত রক্ষণভাগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরেকটি ম্যাচে গোল হজম না করেই জয় তুলে নেয়।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচিত স্পেন এই জয়ের মাধ্যমে সেই অবস্থান আরও শক্তিশালী করল।

ঐতিহ্য ও প্রতিভায় সমৃদ্ধ হলেও স্পেন এখন পর্যন্ত মাত্র একবার, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছে। অন্যদিকে পর্তুগালের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন।

ম্যাচটি রোনালদো ও স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছিল। ফুটবল ক্যারিয়ারের দুই ভিন্ন প্রজন্মের এই দুই তারকাকে ঘিরেই ছিল দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ।

ম্যাচের ১০ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। ডানি ওলমোর বাড়ানো বল থেকে মিকেল ওয়ারজাবাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তাকে একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন।

অন্যদিকে পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদোর শক্তিশালী শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সাইমন। এরপর ইয়ামাল ও অ্যালেক্স বায়েনার পরপর দুটি শট ঠেকিয়ে পর্তুগালকে ম্যাচে রাখেন দিয়োগো কস্তা।

প্রথমার্ধের শেষদিকে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে পর্তুগাল। নুনো মেন্ডেসের জোরালো শট স্পেনের ফুল-ব্যাক পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে ক্রসবারে আঘাত করলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় স্পেন।

পুরো ম্যাচে লামিন ইয়ামালকে ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলেন নুনো মেন্ডেস। তবে ৫৬তম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন পর্তুগিজ এই ডিফেন্ডার, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।

পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদোকে পুরো সময় মাঠে রাখেন। শেষ পর্যন্ত সতর্ক ও রক্ষণাত্মক ম্যাচে যোগ করা সময়ের গোলে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে স্পেন। অন্যদিকে বিশ্বকাপ মঞ্চে বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের ইতি টানেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

×

শেয়ার করুন:

ডাউনলোড করুন (High Quality)